যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৬ PM ৮২
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া ২৭ বাংলাদেশি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং মিশরের স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন। অন্যদিকে, পরিচয় শনাক্ত না হওয়া আরও দুই বাংলাদেশি মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি দিক হারিয়ে প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকে।

পরে ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম জানান, নৌকায় থাকা আরও কয়েকজন বাংলাদেশি সাগরে মারা গেলে তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার ২৪ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৮ জন, হবিগঞ্জের তিনজন এবং সিলেট জেলার তিনজন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে সদর উপজেলার তায়েবুর রহমান, মাহফুজ মিয়া, লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মামুন খান রয়েছেন।

এ ছাড়া দিরাইয়ের নাইম আহমেদ, জগন্নাথপুরের সাইদুল ইসলাম, হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন এবং ছাতকের তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন তালিকায়।

হবিগঞ্জের সদর উপজেলার মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন তালিকায়।

সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা তিন বাংলাদেশি হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী।

বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরে ১৬ আগস্ট একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সাগরে নিখোঁজ বাংলাদেশিদের পরিচয় জানতে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহর নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলমের নামে তিনটি পাসপোর্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে থাকা দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লিবিয়া

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!