যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা ঠেকানোর হুঁশিয়ারি মাহ্দী আমিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ PM ১৪
শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা ঠেকানোর হুঁশিয়ারি মাহ্দী আমিনের

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের বেতন ও মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা সফল হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের গুজব, বিভ্রান্তি ও উসকানিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পোশাকশিল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার পাশে থাকবে। কারণ এ খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতি জড়িত।

মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। তবে যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও একটি মহল পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাহ্দী আমিনের অভিযোগ, শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কারখানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ও বক্স ভাঙচুর এবং যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে পলাতক একটি গোষ্ঠী অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে পোস্টে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় কিংবা প্রমাণের বিস্তারিত তুলে ধরেননি।

শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সরাসরি প্রভাব শ্রমিকদের ওপর পড়বে বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তাঁর মতে, কারখানা বন্ধ হলে কর্মসংস্থান কমবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও শিল্পকারখানা ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। একই সঙ্গে ভাঙচুর, সহিংসতা ও নাশকতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পোশাকশিল্পের বিকাশের প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ খাতের সম্প্রসারণ নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেও শিল্পটির বিকাশ এবং শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে ভূমিকা রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, পোশাকশিল্পের সঙ্গে লাখো শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরবরাহব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যুক্ত। তাই শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যয়, অন্যান্য খাতের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান তিনি। এই বোর্ডের মাধ্যমে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

মাহ্দী আমিন পোশাকশ্রমিক

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!