পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের আলোচনা। ছবি: সবুজ নিশান
রাশিয়ার অর্থায়নে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে বড় ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ২ লাখ মেট্রিক টন গম সংরক্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রকল্পটি শুরু করা যেতে পারে। পরে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানি এবং রাশিয়ার অর্থায়নে সাইলো নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালীতে রাশিয়ার অর্থায়নে একটি গমের সাইলো নির্মাণের বিষয়ও উত্থাপন করেন তিনি। জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি পর্যায়ে রাশিয়া থেকে গম আমদানির প্রস্তাব পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বিকল্প স্থান হিসেবে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, বন্দরে বিদ্যমান অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা বড় আকারের গম সংরক্ষণাগার নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, পায়রায় সাইলো নির্মিত হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছে গম সরবরাহ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের জন্য সংরক্ষিত গম কেনার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে। এতে দেশের গম সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়া উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, পায়রা বন্দরে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে নারায়ণগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রে পণ্য পৌঁছানো সহজ হতে পারে। প্রকল্পটির বাস্তব সম্ভাবনা, উপযুক্ত স্থান ও অবকাঠামোগত সুবিধা সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
আফরোজা খানম বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ আগ্রহী। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আনাস্তাসিয়া নেমোভা, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা সমুদ্রবন্দর গমের সাইলো খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!