যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

তেলের বাড়তি দামে ফেডের সুদহার বাড়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ PM ৫৭
তেলের বাড়তি দামে ফেডের সুদহার বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির উচ্চ হারকে কেন্দ্র করে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদহার নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ফেড সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে পারে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে রয়েছে। এ হার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ায় গত সপ্তাহে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। শেয়ার, বন্ড এবং জ্বালানি—তিন বাজারেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ে। শুক্রবার অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো আগের টানা চার দিনের পতনের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।

ক্রেসেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জ্যাক অ্যাবলিন বলেন, মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ না হওয়ায় বাজারে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগামী সপ্তাহে ফেডের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে শক্ত ধারণা তৈরি হয়েছে।

ব্রিফিং ডটকমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ারও মনে করেন, সাম্প্রতিক বাজার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে বিনিয়োগকারীরা অনেকটাই হিসাবের মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।

এদিকে জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। পরিবহন ও কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। পরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) চলতি বছরের বৈশ্বিক তেলের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়ে দিলে তেলের দাম কিছুটা নেমে আসে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের তীব্রতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে পূর্বাভাস কমানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইউরোপীয় অর্থনীতিতেও পড়ছে। এর এক দিন আগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোজোনে ঋণের ব্যয় বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে সিদ্ধান্তটির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হাউছিদের সাম্প্রতিক তৎপরতার পর সংঘাতের বিস্তার আরও বেড়েছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে হাউছিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিতে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখছে নীতিনির্ধারকেরা।

ইটোরোর মার্কিন বিনিয়োগ বিশ্লেষক ব্রেট কেনওয়েল বলেন, শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীল এবং মাসিক মূল মূল্যস্ফীতিও রয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহে সুদের হার না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ফেডের জন্য আরও কঠিন হতে পারে। তার হিসাবে, বাজারে এখন সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।

তবে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বিরোধ আরও বাড়াতে পারে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ফেডের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সুদের হার কমানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার তুলনামূলকভাবে উঁচু রয়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারও বৃহস্পতিবারের বড় পতনের পর শুক্রবার সামগ্রিকভাবে দুর্বল ছিল। বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ঋণনির্ভর প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারে বিশেষ চাপ দেখা যায়।

ইউরোপের বাজার অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক ছিল। অস্থির একটি সপ্তাহের পর শুক্রবার প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের শেয়ারবাজার—দুটিই ০ দশমিক ৮ শতাংশ করে বেড়ে লেনদেন শেষ করে।

তেলের উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতির এই চাপ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!