যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে ৩৩৯ ঘরবাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ PM ৬
তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে ৩৩৯ ঘরবাড়ি

ছবি:সংগৃহীত

চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৬ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পে অঞ্চলটিতে অন্তত ৩৩৯টি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে আঘাত হানা ভূমিকম্প দুটির মধ্যে প্রথমটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৫। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে আঘাত হানে। প্রায় ৪০ মিনিট পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য এলাকায়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বাসার এলাকা থেকে প্রায় ৩২৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন স্থানে কম্পনের প্রভাব দেখা যায়। একটি ভিডিওতে রেস্তোরাঁ থেকে লোকজনকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে এবং সুপারমার্কেটের তাক থেকে পণ্য নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অন্তত ৩৩৯টি ঘরবাড়ি ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে তিব্বতের স্থানীয় সরকার।

চীনের কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লেভেল-৩ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করা না গেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিব্বত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের তিংগ্রি জেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী হালনাগাদের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ভূমিকম্পে উদ্ধার অভিযান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!