যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় ২৭৫ মিলিয়ন ইউরোর উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ PM ৫০
নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবায় ২৭৫ মিলিয়ন ইউরোর উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর যৌথ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। পাশাপাশি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মাধ্যমে আরও ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানের কথা জানানো হয়েছে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬-এর পার্শ্ববৈঠকে ‘নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনায় এ উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সভায় দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো, রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি প্রসূতিসেবার আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জেলা সদর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোও এ উদ্যোগের অংশ।

জরুরি রোগী স্থানান্তর, হাসপাতালগুলোর মধ্যে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে মহামারি কিংবা অন্য কোনো জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নারী ও কিশোরীদের জন্য ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রচলিত চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে এই বিনিয়োগ ভূমিকা রাখবে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা বলেন, নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ ব্যক্তি ও পরিবারের কল্যাণের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

কর্মসূচিটির বাস্তবায়নে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও এর বিশেষ উদ্যোগ ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’ কারিগরি সহায়তা দেবে। ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কিটা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ নারীর স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের অর্থায়ন ঘাটতি কমিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। তাঁর সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ৮০ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণে এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং সরকারি হাসপাতালে ২৫ হাজার প্রশিক্ষিত ও পেশাদার মিডওয়াইফ পদায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!