যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

রুশ তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ PM ৪
রুশ তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের চাপের মধ্যেই দেশটির তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১ নভেম্বর) রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন আঘাতে রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এর আগে সামারা অঞ্চলে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রসনেফটের মালিকানাধীন আরেকটি বড় শোধনাগারেও হামলার খবর পাওয়া যায়।

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিয়ে আগে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ বন্ধে হোয়াইট হাউসের আহ্বানে সম্মতি দিয়েছে কিয়েভ। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল শোধনাগারে হামলা স্থগিত রাখার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাতে ইউক্রেন সম্মতি দেয়নি।

রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুক্রবার থেকে ইউক্রেন আবারও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেমলিনের অভিযোগ, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উপেক্ষা করছে। এর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নেয় তাঁর প্রশাসন।

তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি জেলেনস্কি। তবে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের একটি কারখানায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি। জেলেনস্কির দাবি, ওই কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো। হামলায় রাশিয়ার প্যান্টসির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি ইউনিটও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযানকে ইউক্রেনের চলমান ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

জেলেনস্কির বক্তব্য, ইউক্রেনের শহরগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব আক্রমণের জবাব হিসেবেই রুশ ভূখণ্ডে দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা করছে কিয়েভ।

এদিকে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার রাতের এসব আক্রমণের পর কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর ভাষ্য, রাশিয়ার হামলার মাত্রা বেড়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মস্কো।

রাজধানী কিয়েভেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কয়েকটি পরিসংখ্যান দিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার ৪০০ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষয়ক্ষতি। একই সময়ে ইউক্রেন ৯৬ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে এবং রাশিয়া ১০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে পেরেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

অন্যদিকে রাশিয়ার অধিকৃত ওলেশকি শহরে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এ বিরতি কার্যকর ছিল। যুদ্ধবিরতির সময় উত্তর ইউক্রেনে কয়েকশ মানুষ তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন। উভয় পক্ষই উদ্ধার কার্যক্রমকে সফল বলে বর্ণনা করেছে।

ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎসের মতে, যুদ্ধবিরতিটি মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। তবে ইউক্রেনের পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, এই বিরতির সুযোগে রুশ বাহিনী ওলেশকিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। তাঁদের দাবি, সেখানে থাকা ক্লান্ত ও খাদ্যসংকটে থাকা সেনাদের সরিয়ে নতুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ইউক্রেনের পুনর্দখল করা খেরসন শহরের বিপরীত পাশে। স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই এলাকায় আবারও রুশ সামরিক অভিযান জোরদার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!