যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাড়তি ২০ হাজার হজ কোটা চায় হাব, অপেক্ষায় হাজারো আবেদনকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ PM ১৪
বাড়তি ২০ হাজার হজ কোটা চায় হাব, অপেক্ষায় হাজারো আবেদনকারী

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা থেকে বাদ পড়া অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সুযোগ করে দিতে সৌদি আরবের কাছে আরও ২০ হাজার কোটা চেয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সংগঠনটির দাবি, নির্ধারিত আসন পূর্ণ হওয়ার পরও ২০ হাজারের বেশি মানুষ হজে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ও মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এ দাবি জানান। এ সময় সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফরিদ আহমেদ বলেন, অপেক্ষমাণদের একটি অংশের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ নিবন্ধন সম্পন্ন করলেও বাকিরা কোটা না থাকায় তালিকায় জায়গা পাননি। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত আসন আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

হাব মহাসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। অথচ বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। তাঁর দাবি, বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোটা কমানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এবার হজে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেছে।

কোটা বাড়ানোর বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের (কায়কোবাদ) ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়টি দ্রুত এগোতে পারে বলে হাবের প্রত্যাশা। ধর্মমন্ত্রী এ বিষয়ে আশাবাদী বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে বাড়তি কোটা নিশ্চিত না হওয়ায় অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

হাব জানিয়েছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এদিকে, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তাই যাঁরা প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবে মেডিকেল ফি বাবদ আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে হাব। মহাসচিব জানান, এ বছর কোনো আগাম ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই সৌদি কর্তৃপক্ষ মেডিকেল ফি বাবদ প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল। বিষয়টি জানার পর হাব সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চায়। পরে ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগ ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আগের দিন ওই অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাকি পাওনা অর্থও দ্রুত ফেরতের অনুরোধ জানান হাব মহাসচিব।

২০২৭ সালের হজ হজের কোটা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!