যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ PM ৭০
ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা; ছবি : সবুজ নিশান

দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষার্থীদের দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও আরবিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউজিসির এই সদস্য বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষা, যোগাযোগ ও চাকরির বাজারে একাধিক ভাষায় দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। নিজস্ব বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত ভাষা শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন দরজা খুলতে পারে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ভাষা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষ করে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষার প্রসারে চীনের দূতাবাসের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

বিদেশি ভাষায় দক্ষতা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা ফেলোশিপ ও সামার স্কুলে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং শিক্ষক-গবেষক বিনিময় কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি চালুর বিষয়ে ইউজিসি কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে শুধু ভাষা শেখার কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন না ইউজিসির সদস্য। তাঁর মতে, এটি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা থাকায় এসব খাতে কাজ করতে ভাষা ও আন্তসাংস্কৃতিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, কৃষি, জলবায়ু, প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা, বৃত্তি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরির একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা ভাষা শেখার সুযোগ আরও সহজলভ্য করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তাঁর মতে, শুধু ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নিয়ে চিন্তা না করে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ বাড়াতে হবে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগাতে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, সামার স্কুল, যৌথ গবেষণা তত্ত্বাবধান ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি চালুর কথা তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষা শিক্ষা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চীনা ভাষার পাশাপাশি দেশটির ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। একইভাবে চীনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!