যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল, নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:০০ PM ৯৭
সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল, নতুন তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর

চিত্রনায়ক সালমান শাহ। সংগৃহীত ছবি

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে না পারায় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে না পারায় আদালতের কাছে সময় আবেদন করেন। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নবমবারের মতো সময় পেলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ছাড়াও তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে সালমান শাহকে দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুর দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ। পরিবারের সদস্যদের সিলেটে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

বাসায় গিয়ে তারা সালমানের স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুলের কাছ থেকে জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও তার সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান। সালমান ঘুমিয়ে থাকায় পরিবারের সদস্যরা পরে আবার আসবেন বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তার ছেলের কী যেন হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় ফিরে যান। এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে তারা সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে এক নারী সেখানে ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরে সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার গলায় দড়ির দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, তখন তার মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। নতুন করে দায়ের করা হত্যা মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা এবং তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আরও সময় চাওয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এখন ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সালমান শাহ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!