যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রিনল্যান্ডে বরফ কমায় নতুন এলাকায় বাড়ছে তিমির উপস্থিতি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২১ PM ৯৮
গ্রিনল্যান্ডে বরফ কমায় নতুন এলাকায় বাড়ছে তিমির উপস্থিতি

ছবি : রয়টার্স

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্রের বরফ দ্রুত কমে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় তিমির বিচরণ বাড়ছে। বরফমুক্ত সমুদ্রপথ তৈরি হওয়ায় আগে যেসব অঞ্চলে তিমির প্রবেশ সীমিত ছিল, এখন সেখানে খাবারের সন্ধানে যেতে পারছে তারা।

দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণায় পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে হাম্পব্যাক, ফিন ও মিঙ্কি প্রজাতির তিমির উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রীষ্মকালে বরফমুক্ত পানিতে এসব তিমিকে প্রচুর খাবার খেতে দেখা গেছে।

গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে তিমিদের জন্য নতুন সমুদ্রাঞ্চলে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উষ্ণ পানির সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছও ওই অঞ্চলে আসছে, যা তিমিদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের সুযোগ তৈরি করছে।

বিজ্ঞানীরা পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তিত সামুদ্রিক পরিবেশকে গ্রীষ্মকালীন খাদ্যের প্রাচুর্যের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই পরিবর্তন আর্কটিক অঞ্চলের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের আগে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের ওই এলাকায় জাহাজ থেকে কোনো হাম্পব্যাক তিমি দেখা যায়নি। ২০০৭ সালে সেখানে সাতটি হাম্পব্যাক তিমি শনাক্ত করা হয়। ২০২৪ সালে জাহাজ থেকে ১৫০টি হাম্পব্যাক তিমির উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়।

গবেষকরা ২০১৫ ও ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে আকাশপথে তিমির ওপর জরিপ পরিচালনা করেন। এর পাশাপাশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা ১৫টি তিমির চলাচলের তথ্য এবং স্থানীয় ইনুইট শিকারিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও গবেষণায় যুক্ত করা হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে গ্রিনল্যান্ড সাগরে প্রায় ৪ হাজার হাম্পব্যাক, ৬ হাজার ফিন এবং ৬ হাজার মিঙ্কি তিমি অবস্থান করেছিল।

গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হাইডে-জর্গেনসেনের মতে, উপমেরু অঞ্চলের অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে পরিবেশগত পরিবর্তনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য।

গবেষকদের ধারণা, উষ্ণ পানির সঙ্গে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে আসা মাছ তিমিদের সেখানে আকৃষ্ট করছে। গ্রীষ্মের খাদ্য মৌসুমে হাম্পব্যাক, ফিন ও মিঙ্কি—এই তিন প্রজাতির তিমি মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টন মাছ ও ক্রিল খেতে পারে বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে।

তবে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে তিমির সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে বেড়েছে কি না, নাকি অন্য অঞ্চল থেকে তিমিগুলো সেখানে চলে আসায় তাদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, তিমিগুলোর একটি অংশ পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকে পূর্বাঞ্চলে চলে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রিনল্যান্ডে কয়েকটি প্রজাতির তিমি শিকার করা হয়।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন সামুদ্রিক প্রাণীদের ওপর এককভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। কিছু প্রজাতি পরিবর্তিত পরিবেশে নতুন খাদ্য ও আবাসস্থলের সুযোগ পাচ্ছে। বিপরীতে নারহোয়াল ও বেলুগার মতো আর্কটিকের অন্যান্য প্রাণী তাদের প্রচলিত পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নতুন এলাকায় তিমির উপস্থিতি বাড়ার ফলে খাদ্য ও আবাসস্থল নিয়ে অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!