যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

নেপালের বন্যায় নিহত ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০; শিক্ষার্থীও শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ PM ৬৯
নেপালের বন্যায় নিহত ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০; শিক্ষার্থীও শতাধিক

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীও রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীও রয়েছেন। বন্যার পর অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো গণকবরেও দাফন করা হচ্ছে।

নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বন্যায় ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলার অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অন্তত নয়টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও সাতটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ রয়েছে রাসুয়া ও নৌয়াকোট জেলায়। ওই দুই জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতেন। বন্যার পানিতে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে, আবার কিছু স্কুল মাটির নিচে চাপা পড়েছে। একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির স্রোতে তাদের এক শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি বাস ভেসে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে একটি মানচিত্রও তৈরি করেছে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ভিজ্যুয়াল জার্নালিজম দল।

এদিকে বন্যায় ভেসে আসা পরিচয়হীন মরদেহের দাফন শুরু করেছে চিতওয়ান জেলা কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে তীরে উঠে আসা অনেক মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব নমুনা মৃতদের স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৭২টি মরদেহের মধ্যে রোববার প্রায় ২০০টি দাফন করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর দাফনও শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি দাফনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। কবরের স্থানে দেওয়া হবে সিরিয়াল নম্বর। পাশাপাশি মরদেহের ডিএনএ নমুনা, ময়নাতদন্ত ও অটপসি প্রতিবেদন এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিকের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চীন থেকে ৪০৩ জন ভারতীয় নাগরিক নেপালে প্রবেশ করেছিলেন। অন্যদিকে চীনে আরও ৫০০ ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে অবস্থান করছেন।

বন্যার পর এখন পর্যন্ত ১৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে নেপালকে সহায়তা করতে ভারতও তাদের সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুতে কাজ শুরু করেছে। দলটি ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্তে নেপালি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে।

নেপাল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!