ছবি:সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর দেশটির তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপকে সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার আয়ারল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক গলফ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি সরে যেতে পারে। তবে দেশটির তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে ইরানে মার্কিন উপস্থিতি অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার মতো নীতি গ্রহণ করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দেশটির তেল খাত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর দেশটির তেল উত্তোলন ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা বেড়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে স্থিতিশীল রাখার জন্য দেশটির উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা জানিয়েছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদক দেশ ইরান। দেশটির বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুদ্ধের পর ইরানের তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল বিক্রি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে শুধু তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ই নয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানে মার্কিন উপস্থিতি অব্যাহত রাখার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল খাতের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দেশটি থেকে দ্রুত পুরোপুরি সরে যাওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে।
ইরানের তেল সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার, ইরানের অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে যুদ্ধ শেষে ইরানের তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই সম্ভাব্য মার্কিন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইরানের তেল সম্পদ ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল নিয়ন্ত্রণ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!