যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় ২২ জন নিহতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০২ PM ৩৩
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় ২২ জন নিহতের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের দুটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে ২২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অপারেশন গজব লিল-হক’-এর আওতায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দেওয়া নিহতের সংখ্যা বা হামলার ফলাফল স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি এলাকায় কয়েকটি কথিত সন্ত্রাসী ক্যাম্প ও গোপন স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। ইসলামাবাদের দাবি, এসব স্থাপনা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।

পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই স্থাপনাগুলোতে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে হামলার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ইসলামাবাদ বলছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের লক্ষ্য। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে এবং সেখানে তাদের নেটওয়ার্ক ও আশ্রয়স্থল রয়েছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ‘গজব লিল-হক’ অভিযান ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ নীতির আওতায় অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের দাবি, বিদেশি সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি ছিল, আফগান ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানোর জবাবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ওই দিন জানিয়েছিলেন, ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি অভিযানটিকে পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট জবাব হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি ছিল, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি তোরখাম সীমান্তের কাছে এবং বাকি চারটি কোহাটের নিকটবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংস করা হয়।

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানে সীমান্তপারের হামলা বেড়েছে বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে এ ধরনের হামলা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তান বারবার কাবুলকে আফগান ভূখণ্ড কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভিযোগ অনুযায়ী যেসব গোষ্ঠী দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে তালেবান কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। কাবুল অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!