যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

এসআইআরবিরোধী বিক্ষোভে দিল্লিতে আটক ৭০০-এর বেশি, সিইসির পদত্যাগ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ PM ৩৭
এসআইআরবিরোধী বিক্ষোভে দিল্লিতে আটক ৭০০-এর বেশি, সিইসির পদত্যাগ দাবি

দিল্লির যন্তর মন্তরে শুক্রবারের বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংগৃহীত ছবি।

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেন বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী অংশ নেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) কর্মীরাও এতে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসআইআর কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত।

তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসআইআরের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার তালিকাভুক্ত ভোটার কিংবা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ করা হচ্ছে। ফলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগকে এখনো নির্বাচন কমিশন বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার পাশাপাশি নিউ দিল্লি এলাকায় জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথেও সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আটক ব্যক্তিদের বাসে করে বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়। এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরাও আটক হয়েছেন। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসহ আরও কয়েকজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

নেহা বোরাকে পুলিশি হেফাজত থেকে বিক্ষোভকারীরা ছাড়িয়ে নিয়েছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দেয়। দলটির নেতা অভিজিৎ দীপ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।

তবে শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বাই পুলিশ। এরপরও সেখানে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়।

সিজেপির দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দলটি ভোটার তালিকা নিয়ে চলমান বিতর্কেরও সমাধান চেয়েছে।

এসআইআরকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের আপত্তি দিল্লি ও মুম্বাইয়ে প্রকাশ্য বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। একদিকে বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্য অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করা।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন জমায়েত ও বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আটকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে এসআইআর নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজনৈতিক আস্থা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!