যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলে বৃহত্তর সরকার গঠনে রাজি নেতানিয়াহু, নেতৃত্বেও চান নিজেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ PM ৬
ইসরায়েলে বৃহত্তর সরকার গঠনে রাজি নেতানিয়াহু, নেতৃত্বেও চান নিজেকে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আলোচনায় বসতে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এমন সরকার গঠিত হলে তার নেতৃত্ব নিজের হাতেই রাখতে চান তিনি। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো বিকল্প প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকোটকে সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তার দল লিকুদ বর্তমান রাজনৈতিক অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না, এমন অন্যান্য দলের সঙ্গেও বৃহত্তর সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম থেকেই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব পার্লামেন্টারি জোটের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার ইসরায়েলের জনগণ চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই পরবর্তী সরকার পরিচালনার দায়িত্বও তার পাওয়া উচিত।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টুগেদার পার্টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি এ বিষয়ে একমত হয়েছে। দলগুলো প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর ৪৮ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে আইজেনকোটের পক্ষে। পার্লামেন্টের দুটি আরব জোটও তাকে সমর্থনের সুপারিশ করতে পারে। তাদের সমর্থন যুক্ত হলে তার পক্ষে আইনপ্রণেতার সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হতে পারে।

তবে এই সমীকরণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন আভিগদর লিবারম্যান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে কিংবা তাদের সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করে গঠিত কোনো সরকারে তিনি অংশ নেবেন না।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার থেকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পার্লামেন্টের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দুই দিনের পরামর্শ শুরু করবেন। আলোচনা শেষে তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য একজন আইনপ্রণেতাকে মনোনীত করবেন।

তবে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো নেতার নাম সুপারিশ করা কিংবা মনোনয়ন পাওয়া মানেই সরকার গঠন নিশ্চিত হওয়া নয়। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন ও সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কার নেতৃত্বে গঠিত হবে।

নেতানিয়াহু ইসরায়েল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!