যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্তের এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের আছে কি না যাচাই হবে

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ PM ৫৫
সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্তের এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের আছে কি না যাচাই হবে

ছবি:সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

রোববার ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা পড়ার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি জানান।

রুনির ভাই রোমান তাঁর ভাগনে মেঘকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদনটি জমা দেন। আবেদনে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কোনো তথ্য বা প্রমাণ থাকলে তা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে মামলাটি ট্রাইব্যুনালের আইনগত এখতিয়ারের আওতায় পড়ে কি না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি একটি পৃথক হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে হলেও এটি ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পর্যালোচনার পর যদি দেখা যায় মামলাটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না, তাহলে আবেদনকারীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তে কোনো সম্ভাব্য সূত্র পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা জানান। তিনি বলেন, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা দুজন ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন।

তাঁদের একজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত এবং অপরজন একজন সামরিক কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বলে জানান তিনি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আগেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তদন্তে ওই সামরিক কর্মকর্তার একজন সহযোগীর মাধ্যমে একটি ডিস্ক হস্তান্তরের বিষয়ও উঠে এসেছে।

তবে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা তদন্তের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি স্পষ্ট করেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রধান ও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই দায়িত্ব পালন করছে। ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য, সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দেওয়া হবে, যাতে মামলার তদন্তে সেগুলো কাজে লাগানো যায়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত চললেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি।

নতুন করে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জমা পড়ায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সাগর-রুনি হত্যা কোনো বৃহত্তর বা পদ্ধতিগত অপরাধের অংশ কি না এবং সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনগত এখতিয়ারের আওতায় পড়ে কি না।

সাগর রুনি মামলার তদন্ত বাংলাদেশে আলোচিত হত্যা মামলা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!