যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর, সংকট কাটানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী পুতুলের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ PM ৬৬
নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর, সংকট কাটানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী পুতুলের

নাটোরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের সৃষ্ট সমস্যা হওয়ায় তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। তবে বিদ্যুতের জন্য ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার মাধবপুর শ্রীশ্রী কালীমাতা মন্দির কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।

ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট শুধু কোনো একটি এলাকার সমস্যা নয়, সারা দেশেই এর প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব সংকট একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিদ্যুতের জন্য অন্য দেশের সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় বাড়িতে বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আবার সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগও থাকবে।

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ-সংকট পুরোপুরি দূর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ সময় পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করতে হবে—বিষয়টি এমন নয় বলে উল্লেখ করেন পুতুল। তাঁর মতে, ধাপে ধাপে লোডশেডিং কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা প্রকৃতিগত বিষয়। তাঁর ভাষ্য, গত ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে না পাওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করাই প্রয়োজন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। মসজিদের জন্য যে নিয়মে বরাদ্দ দেওয়া হবে, একই নিয়ম অনুসরণ করে মন্দিরেও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মাধবপুর শ্রীশ্রী কালীমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষ এতে অংশ নেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!