যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়নি, সমন্বিত কার্যক্রম চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ PM ৪৭
যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়নি, সমন্বিত কার্যক্রম চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তেজগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তরের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আলাদাভাবে কোনো যৌথ অভিযান পরিচালনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির জন্য পরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবায়নের পথে। এ প্রকল্পের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খিলগাঁওয়ে বর্তমানে থাকা সদর দপ্তরের জায়গা অপরিসর হওয়া এবং যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে তেজগাঁওয়ে আধুনিক ও বড় পরিসরের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর পাশাপাশি ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে আনসার-ভিডিপিকে দেশের সবচেয়ে বড় ফোর্স হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আনসার সদস্যদের আবাসনসংকটের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের জন্য ডরমেটরি ও ব্যারাকের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবিদাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেই বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।”

ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের সময় যানজট কমাতে পুরো সড়ক একসঙ্গে না কেটে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত তা পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!