স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত প্রত্যাশিত উন্নতি থেকে পিছিয়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য খাতের অতীত সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ কর্মী নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ফলে অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায়নি। এমনকি প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম কেনার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘদিনের স্থবিরতাও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু যন্ত্রপাতি কেনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয় না; এর সঙ্গে প্রয়োজন উপযুক্ত জনবল, কার্যকর পরিকল্পনা এবং সেবার ধারাবাহিকতা।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, জনবান্ধব নীতি, দক্ষ জনবল, জবাবদিহি এবং বরাদ্দের অর্থ স্বচ্ছভাবে ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, মর্যাদা ও প্রত্যাশা জড়িয়ে রয়েছে। তাই রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা এবং হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা জরুরি। আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, বিশেষায়িত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, দক্ষ বিশেষজ্ঞের ঘাটতি এবং সেবার মান নিয়ে আস্থার সংকট এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার, সেবার মান বৃদ্ধি এবং রোগীদের আস্থা অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাস্থ্য খাত
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!