যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ PM ৮১
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটির রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। একই রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের কেউই বর্তমানে আদালতের হেফাজতে নেই। তাঁরা সবাই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ জুন মামলাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এরপর ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের পর্যায়ে যায়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁদের সাক্ষ্যের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও ছিল।

মামলাটির শুনানি পর্বে প্রসিকিউশন বিপুলসংখ্যক নথি আদালতে উপস্থাপন করে। মোট ১২৩টি সিরিজের প্রামাণ্য নথি দাখিল করা হয়। এরপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক টানা নয় কার্যদিবস ধরে শুনেছে ট্রাইব্যুনাল।

সব পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে উসকানিমূলক বক্তব্য, দমন-পীড়নের নির্দেশ এবং সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সাক্ষ্য ও দাখিল করা প্রমাণ পর্যালোচনা করেই ট্রাইব্যুনাল তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মামলাটির রায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার দায় নির্ধারণে ট্রাইব্যুনালের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!