ছবি: সংগৃহীত
আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। ইসলামী ঐতিহ্যে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়াত হিসেবে পরিচিত। সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকে কোরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর একত্ব, সর্বজ্ঞতা, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা এই আয়াতের মূল বিষয়।
যদিও যে কোনো সময় আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা সওয়াবের কাজ, তবুও কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি পাঠের বিশেষ ফজিলতের কথা বিভিন্ন সহিহ ও হাসান হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
১. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর
হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করলে জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যুই একমাত্র বাধা হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক আলেম প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এটি পড়ার আমলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
২. সকাল ও সন্ধ্যায়
সকালের জিকির এবং সন্ধ্যার জিকিরের অংশ হিসেবে আয়াতুল কুরসি পাঠ করারও গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সকাল ও সন্ধ্যায় এটি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও হেফাজত লাভের আশা করা যায়।
৩. রাতে ঘুমানোর আগে
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করার ব্যাপারে সহিহ বুখারির একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি রাতে শোয়ার আগে এই আয়াত তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতাকে হেফাজতের দায়িত্ব দেন এবং রাতভর শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারে না।
৪. দৈনন্দিন জিকির ও দোয়ার অংশ হিসেবে
অনেক ইসলামি গবেষক ও আলেম দৈনন্দিন জিকিরের অংশ হিসেবে নিয়মিত আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি আল্লাহর স্মরণ বৃদ্ধি, ঈমানকে দৃঢ় করা এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।
আয়াতুল কুরসির গুরুত্ব
আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, অসীম জ্ঞান, পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও সৃষ্টিজগতের ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্বের ঘোষণা রয়েছে। এ কারণেই ইসলামে এই আয়াতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং মুসলমানদের নিয়মিত এটি তিলাওয়াত করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আয়াতুল কুরসি আরবি
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রা স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!