যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

রাজশাহী

পদ্মার ভাঙনে বাঘায় নদীগর্ভে ৩ স্কুল, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ PM ৫২
পদ্মার ভাঙনে বাঘায় নদীগর্ভে ৩ স্কুল, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে পানিবন্দী এলাকা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র হয়েছে ভাঙন। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই সঙ্গে উপজেলার ১৫টি চরের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

নদীর পানি বাড়তে শুরু করে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে। এরপর চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চর এলাকায় শুরু হয় ভাঙন। এর প্রভাবে চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়া বিদ্যালয় তিনটি হলো পলাশি ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নদীতে ইতিমধ্যে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি মসজিদ বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে থাকা পরিবারগুলোরও সংকট বেড়েছে।

আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টিও নদীতে চলে যায়। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এর মধ্যেই গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুরো স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আগেই বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মার পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। এরই মধ্যে অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাঁর মতে, ১৫টি চরের মানুষ বর্তমানে একই সঙ্গে পানি ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন।

পানির কারণে চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের মতো পরিস্থিতি এখন নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়া ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, নদীভাঙনে বহু বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর অনেকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী বাঘা পদ্মার চর

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!