ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি প্রায় দেড় মাস আগে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হওয়া আরমান হোসেনের (১৫) কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের বিনয়ঘর গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে পরিত্যক্ত বাড়িটিতে গাছ কাটার কাজে যান কয়েকজন শ্রমিক। কাজ শেষে পুকুরের পাশ দিয়ে গাছ সরানোর সময় কচুরিপানার নিচে তারা মরদেহটি দেখতে পান। পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আশপাশের মানুষের নজরে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহটি পুকুর থেকে তোলা হয়।
মরদেহ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নাঙ্গলকোটের মক্রবপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রামের কয়েকজন স্বজন ঘটনাস্থলে আসেন। প্রায় দেড় মাস আগে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হওয়া এক চালকের পরিবারের সদস্যরা পরনের পোশাক দেখে মরদেহটি তাদের স্বজনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন।
আরমান হোসেনের নানা মুশফিকুর রহমান মানছুর বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর নাতির হতে পারে। আরমানের বাড়ি সিলেটে। তিনি নানার বাড়িতে থেকে মিশুক বা অটোরিকশা চালাতেন। প্রায় এক মাস ১৬ দিন আগে নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন তিনি।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম জানান, আরমান নামে এক কিশোর অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রায় দেড় মাস আগে থানায় অপহরণের মামলা করা হয়। মামলাটিতে এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মনোহরগঞ্জ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আরমানের কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদ আহমেদ বলেন, উদ্ধার করা মরদেহটি এক মাসের বেশি সময় ধরে কচুরিপানার নিচে পড়ে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলেই সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়। পরে রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন লাকসাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সনদ বড়ুয়া। তিনি জানান, ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
কুমিল্লা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!