যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ডে, চীনা ব্যাংকের শাখা খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ PM ৪১
বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ডে, চীনা ব্যাংকের শাখা খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এ দেশে চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডে’ সম্মেলন। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন ব্যাংক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতের ২৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল দেশটির বড় ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। অবকাঠামো, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা খাতের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বক্তব্য দেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের যৌথ উপস্থাপনায় দুই দেশের আর্থিক সংযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি শাখা চালু করেনি। তবে কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশে তাদের শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে বলে সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সম্মেলনের পর নেটওয়ার্কিং পর্বে চীনা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সরাসরি অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং যৌথ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে আর্থিক সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনা, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সহায়তা প্রয়োজন। তাঁর মতে, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণই এ ধরনের অর্থায়নের চাহিদা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি ও উৎপাদন সম্প্রসারণে অংশীদারত্ব প্রয়োজন। চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তা দিতে তাদের ব্যাংক বিশেষায়িত আর্থিক সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পে তাদের প্রায় ৪০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকার খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য চীনা ব্যাংক বাংলাদেশ ডে বেইজিং সম্মেলন ইনভেস্ট বাংলাদেশ চায়না এক্সিম ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!