যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণদের ভূমিকা চান পরিবেশকর্মীরা

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ PM ১৪
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণদের ভূমিকা চান পরিবেশকর্মীরা

ই-বর্জ্য দূষণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে লিফলেট বিতরণ করছেন আয়োজকেরা। ছবি: সবুজ নিশান

প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে পুরোনো ও অকেজো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর স্তূপ। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত না করায় পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট (VFE) ও ইউক্যানের (YOUCAN) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ভাঙাড়িওয়ালা।

প্রচারাভিযানে বক্তারা জানান, পুরোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ব্যাটারি ও চার্জারের মতো পণ্যে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এসব সামগ্রী সাধারণ ময়লার সঙ্গে ফেলে দেওয়া কিংবা খোলা জায়গায় পুড়িয়ে ফেললে মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হয়। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে তরুণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্টের পরিচালক শেখ শাহরুখ ফারহান বলেন, ই-বর্জ্য নিয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়েও দায়িত্বশীল আচরণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কাজে তরুণদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভাঙাড়িওয়ালার উদ্যোক্তা নাসিম নেক বলেন, ইলেকট্রনিক বর্জ্যকে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে না দেখে আলাদাভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় ভাঙাড়ি সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বক্তাদের মতে, জনসংখ্যার চাপ ও জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার বাড়লেও সেই অনুপাতে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং নিরাপদ পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ ঘাটতি পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে বসুন্ধরা সিটি ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবহারের অনুপযোগী ইলেকট্রনিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়া, মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য পণ্য আবার কাজে লাগানো এবং নিরাপদ পুনর্ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে ই-বর্জ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তাঁরা। প্রচারাভিযানের মূল স্লোগান ছিল—‘Recycle, Rethink, Reform, Reuse’.

ই-বর্জ্য ই-বর্জ্য দূষণ পরিবেশ সুরক্ষা তরুণ সমাজ ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট ইউক্যান ভাঙাড়িওয়ালা বসুন্ধরা সিটি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!