ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেয়েছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কংগ্রেসে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে এ ফল উঠে এসেছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। টেক্সাসে জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন। ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন পরাজিত করেছেন জন হাস্টেডকে। সাউথ ক্যারোলাইনায় ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপারের বিজয়ও ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।
এ ছাড়া কানসাস ও আইওয়াতেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান রজার মার্শালকে। আইওয়ায় জশ তুরেক জয় পেয়েছেন অ্যাশলে হিনসনের বিপক্ষে। জর্জিয়ায় জন ওসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাসের জয়ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্ত করেছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জর্জিয়ায় এক সমাবেশে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। তিনি বলেন, মার্কিন জনগণ ট্রাম্পের অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ব্যালটে তাঁর নিজের নাম থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো।
নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের বড় একটি অংশের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় প্রশাসনের নীতিগত উদ্যোগ, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত কোনো আইন তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে তিনি ভেটো দিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্প
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!