যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬,১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ PM ৫
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইওএম আয়োজিত সীমান্ত ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, নিরাপদ সীমান্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত পরিচালনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যের গতিও বজায় রাখতে হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬–২০৩১’-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার।

ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রমে আধুনিক নীতি ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পেশাগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও মানবপাচার প্রতিরোধে একক কোনো সংস্থার পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

আইওএমের নতুন কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নেও অবদান রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আইওএম প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত কাঠামোতে চারটি বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত চেকপোস্টগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন। সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইওএম

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!