যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬,১৯ কার্তিক ১৪৩৩

জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ভারত সিরিজের সম্ভাবনা

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ PM ৮
জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ভারত সিরিজের সম্ভাবনা

জানুয়ারিতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম ভাগে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সম্ভাব্য এই সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যে সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবির একাধিক সূত্র। তবে সফরের চূড়ান্ত সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, সিরিজের সময়সূচি নিয়ে দুই বোর্ডের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কথাবার্তার অগ্রগতি নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, দুই পক্ষই ইতিবাচক অবস্থান থেকে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সফর নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

বোর্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির সভায় তামিম ভারত সফর নিয়ে আলোচনার সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিরিজ শুরু হয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। সাম্প্রতিক এক অনলাইন বৈঠকেও জানুয়ারির শুরুতে খেলা আয়োজনের বিষয়ে দুই বোর্ড নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে শুধু ক্রিকেট বোর্ডের সমঝোতাই সিরিজ আয়োজনের জন্য যথেষ্ট নয়; দুই দেশের সরকারের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক সাড়া মিলছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও বলেছেন, জানুয়ারিতে সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যদিও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাঁর বক্তব্য, সরকার খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখতে চায় এবং ভারতীয় দলকে বাংলাদেশে খেলতে দেখতে আগ্রহী।

এর আগে দুই দফায় সিরিজটির সময় নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের আগস্টে এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে খেলা হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দুইবারই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ৫ জুলাই দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে প্রথম দফার সিরিজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিজ না হলেও দ্বিতীয় দফায় আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। পরে নতুন সময়সূচি নির্ধারণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি।

ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজকে বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বিসিবি। বোর্ডের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সম্প্রচারস্বত্বের বাজারমূল্য কমলেও ভারতীয় দলের বিপক্ষে খেলা আয়োজন অনেক দেশের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক। এ ধরনের সিরিজে স্পনসরশিপ, সম্প্রচার আয় ও দর্শক উপস্থিতি বাড়ার সুযোগ থাকে।

এদিকে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশে আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) একাধিক বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, জুন-জুলাইয়ে ছেলেদের এশিয়া কাপ এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে। এসব প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশ নেওয়ার কথা। বিসিবির ধারণা, জানুয়ারির দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করা গেলে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোতে ভারতের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য সফর সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচিও সাজাচ্ছে বিসিবি। ডিসেম্বরের মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। পাশাপাশি ঘরোয়া ‘ডমেস্টিক থ্রি’ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তামিম। জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে জাতীয় ক্রিকেটের সূচিতে অন্য কোনো ব্যস্ততা না রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সিরিজ ভারতীয় ক্রিকেট দল বিসিবি বিসিসিআই

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!