যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

দাপ্তরিক জটিলতায় ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন কাঁচা, চরম দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ PM ১০৬
দাপ্তরিক জটিলতায় ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন কাঁচা, চরম দুর্ভোগ

ছবি: সংগৃহীত

দাপ্তরিক জটিলতায় বরগুনায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক আবারও কাঁচা সড়কে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ উঁচু করার সময় সড়কগুলোর পাকা অংশ তুলে ফেলা হলেও পরে তা সংস্কার করেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ফলে বর্ষায় এসব সড়কে কাদা, গর্ত ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় গত দুই বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন বেড়িবাঁধ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় মানুষকে রক্ষায় বরগুনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এসব বাঁধের বড় একটি অংশ স্থানীয়দের সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় এসব বাঁধের ওপর কার্পেটিং করে এলজিইডি।

সম্প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় জেলার সদর উপজেলায় ২০ কিলোমিটার, তালতলীতে ৩ কিলোমিটার এবং পাথরঘাটায় ২২ কিলোমিটার—মোট ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উঁচু করা হয়েছে। এ সময় বাঁধের ওপর থাকা পাকা সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়। পরে দাপ্তরিক জটিলতায় সড়কগুলো আর পাকা করা হয়নি।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-গুলবুনিয়া-পুরাকাটা এলাকায় দেখা যায়, প্রায় আট বছর আগে এলজিইডির উদ্যোগে সড়কটি পাকা করা হয়েছিল। তবে দুই বছর আগে বেড়িবাঁধ উঁচু করার সময় সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলায় সেটি আবার কাঁচা হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং সেখানে পানি জমে রয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু বরগুনা-গুলবুনিয়া-পুরাকাটা সড়ক নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ওপর থাকা সড়কের একই অবস্থা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। কৃষকেরাও উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

গুলবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম মুসল্লী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি—দুই দপ্তরের আওতায় থাকায় সড়কটির কোনো কাজ হচ্ছে না। দুই বছর ধরে রাস্তাটি কাঁচা পড়ে আছে। বর্ষায় ফসল পরিবহনেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পুরাকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফ বলেন, জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তা উঁচু করেছে। কিন্তু রাস্তা উঁচু করার পর সেটি আর পাকা করা হয়নি। ফলে শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।

রিকশাচালক মামুন বলেন, সড়ক কাঁচা হওয়ায় বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ রিকশা ঠেলে পাকা সড়কে উঠতে হয়। বৃষ্টি হলে কাদা বেশি থাকায় রিকশা ঠেলেও নেওয়া যায় না। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির উচ্চতা বাড়ছে। তাই উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধগুলো আরও উঁচু করার প্রয়োজন হচ্ছে। বাঁধের ওপরের সড়কগুলো উঁচু করার সময় কার্পেটিং তুলে ফেলতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বেড়িবাঁধের বাইরে যোগাযোগের জন্য আলাদা সড়ক নির্মাণ করা গেলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। তবে জনগণের প্রয়োজন ও পানির উচ্চতা বিবেচনায় কোথাও বাঁধের ওপর সড়ক কার্পেটিং করার প্রয়োজন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর এলজিইডির কয়েকটি পাকা সড়ক রয়েছে। বাঁধ উঁচু করার কারণে সেগুলো বর্তমানে কাঁচা হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এলজিইডির রোড ডাটাবেইজে এসব সড়ক এখনও পাকা হিসেবে রয়েছে। সেগুলো কাঁচা হিসেবে হালনাগাদের কাজ চলছে। পাশাপাশি সদর দপ্তরে ছবিসহ তথ্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে সড়কগুলো পুনরায় পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!