যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞা শেষ, মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরতে নামছেন জেলেরা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ PM ৩০
নিষেধাজ্ঞা শেষ, মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরতে নামছেন জেলেরা

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার জেলেরা। ছবি: সংগৃহীত

মা ইলিশ সংরক্ষণে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে। এরপর থেকেই ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুই লক্ষাধিক জেলে। দীর্ঘ বিরতির পর নদীতে ফেরার অপেক্ষায় জেলেপল্লি ও মাছঘাটগুলোতে ফিরেছে ব্যস্ততা। জাল মেরামত, নৌকা ও ট্রলার প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাছ কেনাবেচার জন্য ঘাট ও আড়তগুলোও সাজিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ভোলার নির্ধারিত অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এরপর নিয়ম মেনে নদীতে মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা।

নিষেধাজ্ঞার কারণে টানা ২২ দিন মাছ ধরতে না পারায় ভোলার বিপুলসংখ্যক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাঁদের অধিকাংশেরই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার চালাতে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। অনেককে সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ ও ধারদেনা করতে হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জেলার প্রায় দেড় লাখ নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সব পরিবার সেই সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরার সুযোগ ফিরে আসায় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার আশায় অনেকে আগেভাগেই জাল, নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার মেরামত করে প্রস্তুত করেছেন।

জেলেদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ীরাও নতুন করে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছেন। মাছ কেনাবেচা শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ঘাট ও আড়ত পরিষ্কার করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশের সরবরাহ কেমন হবে, সেদিকেই এখন নজর জেলে ও ব্যবসায়ীদের।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন আশা প্রকাশ করেছেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পাবেন এবং সরকারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলা মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে ২৯৭টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে আইন অমান্য করার দায়ে ৮০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে প্রায় ২ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ৯ কোটি ৯২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোলার জেলে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!