যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যাংক খাতের ক্ষতি সামলাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ PM ৬৩
ব্যাংক খাতের ক্ষতি সামলাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক খাতে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ লুটের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ অর্থ জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত জনগণের করের অর্থই ব্যবহার হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর সেবা চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মিয়া এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক খাতের ক্ষতি পূরণে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথা উল্লেখ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেখতে পান, ব্যাংক খাতের অর্থের বড় একটি অংশ লুট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় আর্থিক খাতে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ থেকে আট বছর ধরে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই অর্থের পরিমাণ বোঝাতে গভর্নর বলেন, বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রায় দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা করা সম্ভব হতো। একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয়ও মেটানো যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের দায় যাঁদের, তাঁদের কর্মকাণ্ডের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ করদাতাদের ওপর পড়ছে। এ কারণে ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ব্যাংক খাতের সংকটের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি অর্থ পাঠানোর সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিক সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আন্তঃঅপারেটর লেনদেনের চার্জ শূন্য করা হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থায় দৈনিক গড়ে ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। লেনদেনের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিদিন তিন হাজার কোটি টাকায় নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানান গভর্নর।

তাঁর মতে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালু হলে রিকশাচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে ও স্বচ্ছভাবে অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নগদ অর্থনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ডাইনামিক কিউআর কোড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ব্যক্তিগত কিউআর কোড পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন, যাতে তাঁরা শিক্ষার্থীদের হয়ে ফি পরিশোধ করতে পারেন।

নতুন প্রযুক্তি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার না চালিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান উপাচার্য।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, আর্থিক সেবা সহজে ব্যবহার করা এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই ডিজিটাল রূপান্তর কার্যকর হয়। ইউআইইউতে বাংলা কিউআর চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্টের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর ও নগদ অর্থবিহীন অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউআইইউতে বাংলা কিউআর সেবা চালু করা হয়েছে। আপাতত ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অংশ নেয় এবং উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিরা সরাসরি কিউআর কোডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পান।

ব্যাংক ইউআইইউ ডিপিআই

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!