ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করতে গিয়ে দেশটির নাম ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভোট গণনা প্রক্রিয়ারও সমালোচনা করেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছে।’ অথচ ওই দিন ভোটগ্রহণ হচ্ছিল ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগার বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।
ট্রাম্পের পোস্টে অন্তত দুটি স্পষ্ট তথ্যগত ভুল রয়েছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ভারতে নয়। দ্বিতীয়ত, ভারতে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না।
ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন একটি ইলেক্টরাল কলেজের মাধ্যমে। নির্বাচনে সংসদ ও রাজ্য আইনসভার নির্বাচিত সদস্যরা ভোট দেন। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট পদ্ধতিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রাজিলে রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় দফা বা রান-অফ ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ শতাংশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।
ট্রাম্পের পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও রসিকতা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী তার ভুলটি তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে ব্রাজিল ও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার মধ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাত্র ১২ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের কথা কীভাবে উল্লেখ করা হলো। অন্যরা স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।
দেশ বা ভৌগোলিক পরিচয় গুলিয়ে ফেলার ঘটনা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বক্তব্যে তিনি দেশ ও স্থানের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করেছেন।
গত জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনের সময় ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভুল করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ জাপান’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। এর আগে জানুয়ারিতে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও গ্রিনল্যান্ডকে একাধিকবার ‘আইসল্যান্ড’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!