যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৫ কার্তিক ১৪৩৩

দুই মাসে ওয়াসার কাজে অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ PM ২৭
দুই মাসে ওয়াসার কাজে অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প ও সেবার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ওয়াসার অনুমোদিত প্রকল্পগুলোতে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং অদক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনে এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী দাসেরকান্দি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পূর্বাচলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অবিলম্বে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কথাও বলেন তিনি।

ঢাকা ওয়াসার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যমান আইনে ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বোর্ড গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে বোর্ডের হস্তক্ষেপে জনসেবামূলক কার্যক্রমের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রাজধানীর পানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ ৩১৪ কোটি লিটার করে। জনসংখ্যা ও আবাসন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে। তবে তাঁর অভিযোগ, গত সাত মাসে ওয়াসার কাজে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি। রাজধানীতে পানি সংকট তৈরি হলে সরকারকেই তার দায় নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর বিষয়টি সামনে রেখে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভ থেকে, আর উপরিভাগের উৎস থেকে পাওয়া যায় ২৬ শতাংশ। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য পূরণে উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।

ওয়াসার নিজস্ব আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, সেবার মান বজায় রেখেই রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, যাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সংস্থার নিজস্ব অর্থে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং ও বিলিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ২০৫০ সালের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক জনবল কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব ঘটনায় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে জনসেবা ব্যাহত না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া দাঁত ব্রাশ বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খুলে না রেখে অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

দুই মাস পর আবারও ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন বলে জানান মীর শাহে আলম। ওই সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান তিনি। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন এবং সিবিএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ওয়াসা মীর শাহে আলম ওয়াসার প্রকল্প পানি সরবরাহ দাসেরকান্দি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!