ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়ির পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যুবলীগের তিনজন এবং ছাত্রলীগের দুজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাতজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ বছর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জের কোবদাসপাড়া ও একডালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন যুবলীগ কর্মী মো. রবিউল ইসলাম (৩১), ছাত্রলীগ কর্মী মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে সোহাগ (২৮) এবং মো. সাজু (১৭)।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান ঢাকা পোস্টকে জানান, গ্রেপ্তার তিনজন সরাসরি ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে জানপুর, দত্তবাড়ি ও কামারখন্দ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. লিটন শেখ (৪৫), ছাত্রলীগ কর্মী ইউনুস আলী নিশাত ওরফে আগুন শেখ (৩৮), যুবলীগ কর্মী চান শেখ (৪৫) এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কোরবান আলী (৩৩)। বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিছিলের সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার চার সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুর রহমান এবং কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান, মোরশেদুল ইসলাম ও গাড়িচালক আব্দুল গফুর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু এবং যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের একটি এলাকায় পুলিশের টহল গাড়ির পাশ দিয়ে যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল যাওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওতে তাঁকে মিছিলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মিছিলের সামনে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ছিল এবং গাড়ির ভেতরে পুলিশ সদস্যরাও অবস্থান করছিলেন।
এ সময় মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ভিডিওতে একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ির দরজা খুলতে দেখা গেলেও পরে দরজা বন্ধ করে গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার এবং চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!