যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ PM ৩০
ইসরায়েলে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু

নির্বাচনে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পরও অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারেন নেতানিয়াহু।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এ পরিস্থিতি উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার ভিত্তিতে স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। তবে কোনো কোনো সূত্রে ভোট গণনার অগ্রগতি ৯০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়ায় আসনসংখ্যা এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, চরম ডানপন্থী ও অতি রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে।

বিরোধী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন মহলে আপত্তি রয়েছে। আইজেনকট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুর হাতে জনগণের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট নেই। কোনো অনৈতিক চাপের মুখে কর্মকর্তাদের অবস্থান অটুট রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একটি ছোট আরব দলের সমর্থন নেওয়ার নজির রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় জয়েন্ট লিস্টসহ আরব দলগুলোর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরির বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত সরকারের মতোই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থাকলেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই যুগের রেকর্ড ভেঙেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ভোটদানও নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। জরিপের পূর্বাভাস প্রকাশের পর জয়েন্ট লিস্টের কার্যালয়ে দলটির কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দলটির প্রার্থী ফাতেন গাত্তাস বলেন, তাঁরা দখলদারত্ব ও বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরায়েলেই থাকবেন।

অন্যদিকে, লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ভোট গণনা শেষ হওয়া এবং দলগুলোর মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে দর-কষাকষির ফলের ওপরই ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে। প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।

ইসরায়েল নির্বাচন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!