রায়েরবাজার বধ্যভূমি পরিদর্শন করে সংরক্ষণ ও উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। ছবি: সবুজ নিশান
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত নতুন স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অবকাঠামোর অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং স্থাপনাগুলোর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রায়েরবাজার বধ্যভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মন্ত্রী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেগুলোর ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে আহমেদ আজম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। এই ইতিহাস ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। রায়েরবাজারে শায়িত শহীদদের আত্মত্যাগ যেন দেশের মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণ করে, সে লক্ষ্যেই স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগেই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন স্থাপনাগুলোর মধ্যে থাকা লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে। আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
তবে পরিদর্শন শেষে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারির কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা এবং স্থাপনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রায়েরবাজার বধ্যভূমি আহমেদ আজম খান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!