যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৫ কার্তিক ১৪৩৩

হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের মামলার প্রতিবেদন জানুয়ারিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ PM ৩১
হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের মামলার প্রতিবেদন জানুয়ারিতে

শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকার বেশি সংগ্রহের অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে করা এ মামলার প্রতিবেদন আগামী ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন।

মামলার তিন আসামির মধ্যে নজরুল ইসলাম মজুমদার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করা হয়। এতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করেন। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনাকে আজীবন সভাপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানাকে সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, বিএবির সভাপতি থাকাকালে নজরুল ইসলাম মজুমদার তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিবিধ আলোচনার অংশ হিসেবে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ওই ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে ৪১টি ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নথি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়েছে, এসব ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর-সংক্রান্ত নীতিমালায় ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদানের অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ট্রাস্টের ঠিকানায় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর কিংবা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, ট্রাস্টের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এভাবে সরকারি আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানা যাবে।

শেখ হাসিনা শেখ রেহানা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!