যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

গবেষণার নামে উটপাখি দিয়ে ভোজন বিলাস, তদন্ত ও শাস্তি দাবি এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ AM | সর্বশেষ আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ PM ১৪২
গবেষণার নামে উটপাখি দিয়ে ভোজন বিলাস, তদন্ত ও শাস্তি দাবি এনসিপির

গবেষণা প্রকল্পে উটপাখি নিয়ে বিতর্কের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উটপাখি গবেষণা প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং গবেষণার নামে উটপাখি জবাইয়ের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের কৃষি সম্পাদক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম এ দাবি জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৩৪ কোটি টাকার উটপাখি গবেষণা প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গরু ও খাসির বিকল্প মাংসের উৎস হিসেবে উটপাখি বাংলাদেশে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এর আওতায় আফ্রিকা থেকে দুই ধাপে মোট ২২টি উটপাখি আমদানি করা হয়।

এনসিপির অভিযোগ, আমদানি করা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি ‘স্বাদ যাচাইয়ের’ নামে জবাই করা হয়েছে। এছাড়া তিনটিকে মৃত দেখানো হয়েছে, দুটি অসুস্থ রয়েছে এবং বাকি দুটি উটপাখির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো গবেষণা ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছে দলটি।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে স্ত্রী, শ্যালক, ভায়রাভাই, ভাগিনা এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়সহ মোট ১৮ জনকে নিয়োগ দেন। পাশাপাশি সরকারি অর্থে আমদানি করা উটপাখি আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ভোজনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অপচয় হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার, প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে গবেষণা প্রকল্প অনুমোদনের আগে সম্ভাব্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে যাচাই করা।

দলটির ভাষ্য, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!