যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬,১৭ কার্তিক ১৪৩৩

দক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ PM ৬২
দক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় দক্ষিণ আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ অঞ্চলের ১১টি দেশে বাংলাদেশ ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এ বাজারে সবচেয়ে বেশি পণ্য গেছে ব্রাজিল, চিলি ও পেরুতে। তবে রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর হওয়ায় পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। চিলিতে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য, আর পেরুতে ২ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। একই সময়ে কলম্বিয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার, উরুগুয়েতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার এবং আর্জেন্টিনায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আমেরিকায় পোশাকের বাইরে পাটজাত সামগ্রী, চামড়ার পণ্য, গৃহসজ্জার উপকরণ, হস্তশিল্প ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের চাহিদা ও ক্রেতাদের পছন্দ বুঝে রপ্তানিকারকেরা নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারলে প্রচলিত বাজারের বাইরেও বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার হতে পারে।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ইপিবির আর্থিক সহায়তা এবং ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রদর্শনীতে চারটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি বুথে পণ্য তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস।

প্রদর্শনীতে পাটের পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, বাঁশের তৈরি পণ্য, টেরাকোটা, মাটির সামগ্রী ও নকশিকাঁথি প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের জানাতে ইপিবি ও দূতাবাসের পক্ষ থেকেও প্রচারমূলক বুথ রাখা হয়।

আয়োজকদের উদ্যোগে ব্যবসায়িক মতবিনিময় ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের পণ্য দেখতে বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে আসে। এ ছাড়া গৃহসজ্জা ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনার হয়। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে ইপিবি। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর মতে, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সীমিত কয়েকটি বাজারে রপ্তানি কেন্দ্রীভূত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় দেশের আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই নতুন পণ্য ও বাজার খোঁজার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা, ভোক্তার পছন্দ, মূল্য, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক রীতিনীতি নিয়ে গবেষণা জরুরি। জাতীয় প্যাভিলিয়নের পরিচিতি বাড়ানো, রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

ইপিবির পণ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো প্রধানত তৈরি পোশাকনির্ভর। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ওভেন পোশাক ও পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। দুই খাত মিলিয়ে আয় প্রায় ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ওই ১১টি দেশে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

একই সময়ে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং জুতা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য থেকে ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যান্য বস্ত্রপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী ও ভ্রমণসামগ্রীও রপ্তানি তালিকায় রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার বাড়াতে পারলে দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রাজিল ও চিলি বাংলাদেশের জন্য এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুই বাজার। দেশ দুটিতে মিলিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য, যা ১১টি দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ। এ কারণে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় এ দুই দেশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পেরু ও কলম্বিয়ায় নতুন ক্রেতা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমেও রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি দক্ষিণ আমেরিকা ব্রাজিল চিলি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তৈরি পোশাক

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!